1. admin@alokitonoakhali.com : admin :
  2. inof@alokitonoakhali.com : newsdesk :
একটি বিমানবন্দর পাল্টে দিতে পারে নোয়াখালীর ভবিষ্যৎ - alokitonoakhali.com
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
১৫ আগস্ট সকল অনুষ্ঠানে র‍্যাবের টহল দৃশ্যমান থাকবে বেগমগঞ্জে বিধিনিষেধ অমান্য করে বিয়ের পর্দ, বরের বাবার অর্থদন্ড ব্র্যাক কর্তৃক কোভিড – ১৯ প্রতিরোধে দুর্গ নামক প্রকল্পের মাক্স বিতরণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত। চাটখিলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক ফয়েজসহ গ্রেফতার ৩ সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলায় গ্রেফতার-১ নোয়াখালীতে দাফনের ১১১ দিন পর কবর থেকে গৃহবধূর লাশ উত্তোলন   সেনবাগে পৌর মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বাবু`র উদ্যোগে তৃতীয় ধাপে মাস্ক – হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ। শেরওয়ানি-পাগড়ি নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তারা বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ এর উদ্যোগ ঈদ পূর্ণমিলন ও বৃক্ষরোপন সেনবাগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান হাজ্বী রুহুল আমিন

একটি বিমানবন্দর পাল্টে দিতে পারে নোয়াখালীর ভবিষ্যৎ

  • আপডেট সময়: শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১
  • ৮২ পাঠক

বিশেষ প্রতিনিধিঃ নোয়াখালী বাংলাদেশের প্রাচীন ও সমৃদ্ধশালী অঞ্চল। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এ অঞ্চলে শিল্প সম্ভাবনার বিকাশ ঘটে। তৎকালীন সময়ে এ অঞ্চলে বেশ কয়েকটি শিল্প কারখানা গড়ে ওঠে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কিন্তু যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সুবিধার অভাবে ধ্বংসের মুখে পতিত হয় নোয়াখালী অঞ্চলের শিল্প সম্ভাবনা। তখনই চিন্তা করা হয় এ অঞ্চলের শিল্প-বানিজ্যের প্রসারতা বাড়াতে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মানের প্রয়োজনীয়তা।

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় স্বাধীনতার আগে ফসলি জমিতে কীটনাশক ছিটানোর জন্য একটি এয়ারস্ট্রিপ ছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সেটি যথাযথ রক্ষণাব্ক্ষেণ ও পরিচর্যার অভাবে পরিত্যক্ত রয়েছে। সেই স্থানে একটি বিমানবন্দর স্থাপনের জন্য ২০১৭ সালে ১ আগস্ট সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তৎকালীন বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে চিঠি লেখেন। ওই চিঠিতে বলা হয়, পরিত্যক্ত স্থানটিতে একটি রানওয়েসহ ছোট টার্মিনাল রয়েছে। জনস্বার্থ বিবেচনা করে নোয়াখালী সদর উপজেলায় অব্যবহৃত এয়ারস্ট্রিপে একটি নতুন বিমানবন্দর স্থাপনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

১৯৯৫ সালে নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদী হতে ১০ কিঃকিঃ দূরে ধর্মপুর ইউনিয়নের উত্তর ওয়াপদা বাজার সংলগ্ন এলাকায় চর শোলুকিয়া নামক স্থানে সরকারীভাবে একটি বিমানবন্দর নির্মানের কাজ শুরু হয়। বিমানবন্দর টি নির্মানের জন্য তৎকালীন সময়ে প্রায় ২০ একর জমিও অধিগ্রহন করা হয়। নির্মান সম্পন্ন হয় বিমানবন্দরের রানওয়ে, যেখানে প্রাথমিকভাবে খরচ হয় প্রায় ২ কোটি টাকা। কিন্তু অামলাতান্ত্রিক জটিলতায় সংযোগ সড়ক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মিত না হওয়ায় বন্ধ হয়ে পড়ে বিমানবন্দরের নির্মান কাজ। দুঃখের বিষয় অাজ পর্যন্ত বিমানবন্দরটির নির্মান কাজ শেষ হয়নি, যার ফলে থমকে যায় নোয়াখালীর শিল্প সম্ভাবনা এবং পরবর্তীকালে সরকারি উদ্যোগে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য শিল্পকারখানা গড়ে না উঠলেও বেসরকারী উদ্যোগে অনেকগুলো এগ্রো বেইজড ক্ষুদ্রশিল্প গড়ে উঠে এ অঞ্চলে। তাই সাগরতীরের নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা হলে এ অঞ্চলের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারবে সরকার।

নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আ্যমেরিকা সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত আছে এ অঞ্চলের মানুষ যারা প্রততিনিয়তই রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকাকে করেছে সমৃদ্ধশালী। বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় নোয়াখালী অঞ্চলে প্রবাসীদের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী। নোয়াখালীর এ প্রবাসীরা এখন রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে যাতায়াত করে।

বর্তমানে একটা বিষয় অবাক লাগে বিদেশ থেকে বিমানের ফ্লাইটে ঢাকা আসতে সময় লাগে যেখানে ৩-৪ ঘন্টা সেখানে তাদের ঢাকা থেকে নোয়াখালী আসতে লাগে ৭-৮ ঘন্টা। এতে তাদের পোহাতে হয় সীমাহীন ভোগান্তি। প্রবাসীদের সিংহভাগ অংশ নোয়াখালীর বলে নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠিত হলে তারা সরাসরি বিদেশ থেকে নোয়াখালীতেই আসতে পারবে। এতে তাদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হবেনা এবং ঢাকার বিমানবন্দরের উপর ও চাপ কমে যাবে অনেকাংশে। নোয়াখালীর প্রবাসীরা ছাড়াও এতে উপকৃত হবে কুমিল্লা, চাঁদপুর, লক্ষীপুর, ফেনী ও পাশ্ববর্তী জেলার প্রবাসীদের। তাই বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীদের সুবিধার্থে নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা করা অতীব জরুরী হয়ে পড়েছে।

নোয়াখালীর রয়েছে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা। সাগরতীরের উপকূলীয় অঞ্চল নোয়াখালী রয়েছে ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, নতুন জেগে ওঠা দ্বীপসমূহ এবং নিঝুম দ্বীপের মত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিদর্শন। সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী হরিনের অভয়ারন্য নিঝুম দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নজর কেড়েছে বিশ্ববাসীর। নিঝুম দ্বীপে ঘুরতে অাসে বিদেশী পর্যটকেরা। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা না থাকায় অনেক বিদেশী পর্যটকেরা আসতে পরছেনা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের পর্যটন শিল্প। যদি নোয়াখালী তে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মিত হয় তাহলে প্রচুর পরিমানে বিদেশী পর্যটকেরা আসতে শুরু করবে। এতে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে উন্মোচিত হবে নতুন দ্বার।

নোয়াখালী নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ও সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক মানের সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। তাই সেনা সদস্যদের যাতায়াত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে নোয়াখালী তে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মান করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও সম্প্রতি নোয়াখালীতে সরকারীভাবে একটি বিশেষ শিল্প অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে এই শিল্প অঞ্চলের সাথে আন্তর্জাতিক আমদানী রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভূমিকা অপরিহার্য।

নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা করা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী। দেশের স্বার্থে এ অঞ্চলের শিল্প-বানিজ্য, পর্যটন সম্ভাবনা ও বিপুল সংখ্যক প্রবাসীদের সুবিধার্থে নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবী। তাই বিমানবন্দরের জন্য পূর্বের অধিগ্রহনকৃত জমিতে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠা করে অসমাপ্ত কাজ সসাপ্ত করার জোর দাবী জানান নোয়াখালী বাসি।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Error Problem Solved and footer edited { Trust Soft BD }
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2021Alokito Noakhali
Web Design By Trust Soft BD